মেট্রোরেলের টিকিট কাটার নিয়ম: সিঙ্গেল টিকিট, এমআরটি পাস না র্যাপিড পাস?
মেট্রোরেলে চড়ার তিনটা উপায়: স্টেশনের মেশিন বা কাউন্টার থেকে সিঙ্গেল টিকিট, এমআরটি পাস, অথবা র্যাপিড পাস। দুই কার্ডেই প্রতিবার ১০% কম ভাড়া কাটে, আর টিকিটের লাইনে দাঁড়াতে হয় না। সিঙ্গেল টিকিট এখনো অনলাইনে কাটা যায় না, তবে কার্ড বিকাশ, নগদ, রকেট বা ব্যাংক কার্ড দিয়ে অনলাইনে রিচার্জ করা যায়।
সিঙ্গেল টিকিট, এমআরটি পাস না র্যাপিড পাস?
| সিঙ্গেল টিকিট | এমআরটি পাস | র্যাপিড পাস | |
|---|---|---|---|
| কে দেয় | ডিএমটিসিএল | ডিএমটিসিএল | ডিটিসিএ |
| দাম | শুধু ভাড়া, ২০–১০০ টাকা | ৫০০ টাকা, এর মধ্যে ৩০০ টাকা ভাড়ার ব্যালেন্স | ৪০০ টাকা: ২০০ জামানত + ২০০ ব্যালেন্স |
| কোথায় পাবেন | যেকোনো স্টেশনের মেশিন বা কাউন্টার | যেকোনো স্টেশনের এক্সেস ফেয়ার অফিস, ফরম পূরণ করে | স্টেশনের কাউন্টার আর ডাচ-বাংলা ব্যাংকের বুথ |
| ছাড় | নেই | প্রতিবার ১০% | প্রতিবার ১০% |
| কোথায় চলে | একটা যাত্রা, কেনার দিনই | শুধু মেট্রোতে | মেট্রো আর কিছু বাস রুটে |
| রিচার্জ | – | মেশিন, কাউন্টার বা অনলাইনে; কার্ডে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা | মেশিন, কাউন্টার বা অনলাইনে |
| মেয়াদ | কেনার দিন | ১০ বছর পর্যন্ত | নির্দিষ্ট মেয়াদ নেই |
| যা লাগবে | কিছু না | নিবন্ধন ফরম | জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) |
আমাদের পরামর্শ: মাসে কয়েকবারের বেশি চড়লে কার্ড নিয়ে নিন। মেট্রোতে এমআরটি পাস আর র্যাপিড পাসে ছাড় একই; র্যাপিড পাস বাড়তি কিছু বাস রুটেও চলে। ২০২৫ থেকে নতুন এমআরটি পাস প্রায়ই পাওয়া যাচ্ছে না, কাউন্টারে না থাকলে র্যাপিড পাস নিয়ে নিন।
সিঙ্গেল টিকিট কাটার নিয়ম
- স্টেশনে ঢুকে টিকিট ভেন্ডিং মেশিন (TVM) বা টিকিট কাউন্টারে যান।
- মেশিনে যে স্টেশনে যাবেন সেটা আর কয়টা টিকিট লাগবে বেছে নিন। একবারে সর্বোচ্চ ৫টা।
- নগদ টাকা দিন। খুচরা নোট সঙ্গে রাখলে সুবিধা; ভিড়ের সময় কাউন্টারের চেয়ে মেশিনে তাড়াতাড়ি হয়। ভাড়া কত, দেখে নিন ভাড়ার তালিকায়।
- ঢোকার গেটে নির্দিষ্ট জায়গায় টিকিট ছুঁইয়ে (ট্যাপ বা পাঞ্চ করে) প্ল্যাটফর্মে উঠে যান।
- নামার স্টেশনে বের হওয়ার গেটের স্লটে টিকিটটা ঢুকিয়ে দিন। গেট টিকিট রেখে দিয়ে খুলে যাবে।
এমআরটি পাস করার নিয়ম
- যেকোনো স্টেশনের এক্সেস ফেয়ার অফিসে (EFO, মানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় অফিস) যান।
- এমআরটি পাসের নিবন্ধন ফরম পূরণ করুন। ফরমটা ডিএমটিসিএলের ওয়েবসাইটেও আছে।
- ৫০০ টাকা দিন। এর মধ্যে ৩০০ টাকা কার্ডে থাকবে ভাড়ার জন্য।
- ঢোকা আর বের হওয়ার সময় গেটে কার্ড ট্যাপ করুন। ১০% কম ভাড়া ব্যালেন্স থেকে কেটে যাবে।
মেশিন, কাউন্টার বা অনলাইনে যখন খুশি রিচার্জ করা যায়, তবে কার্ডে সর্বোচ্চ ১০,০০০ টাকা রাখা যায়। ডিএমটিসিএল বলছে, একটা এমআরটি পাস ১০ বছর পর্যন্ত চালানো যায়।
র্যাপিড পাস কোথায় পাওয়া যায়
র্যাপিড পাস দেয় ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। জাতীয় পরিচয়পত্র আছে এমন যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিক এটা নিতে পারেন, দাম ৪০০ টাকা: ২০০ টাকা জামানত আর ২০০ টাকা ব্যালেন্স। বেশির ভাগ মেট্রো স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে আর স্টেশনের ভেতরে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের (ডিবিবিএল) বুথে পাবেন।
কার্ড হাতে পেয়েই rapidpass.com.bd বা র্যাপিড পাস অ্যাপে নিবন্ধন করে নিন। নিবন্ধন না থাকলে অনলাইনে রিচার্জ করা যায় না, আর কার্ড হারালে নতুন কার্ডও পাবেন না। অনলাইনে নিবন্ধন পুরো হতে সর্বোচ্চ তিন কর্মদিবস লাগতে পারে।
এমআরটি পাস বা র্যাপিড পাস অনলাইনে রিচার্জের নিয়ম
- rapidpass.com.bd বা অফিসিয়াল Rapid Pass অ্যাপে মোবাইল নম্বর দিয়ে লগইন করুন। অ্যাকাউন্ট না থাকলে খুলে কার্ড যোগ করুন।
- কার্ড সিলেক্ট করে ১০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে অ্যামাউন্ট লিখুন।
- বিকাশ, নগদ, রকেট বা ব্যাংক কার্ডে পে করুন। বিকাশ অ্যাপের “Metro Rail” অপশন থেকেও একই পেজে যাওয়া যায়।
- যেকোনো মেট্রো স্টেশনের অ্যাড ভ্যালু মেশিনে (AVM) কার্ড ট্যাপ করুন। তার আগ পর্যন্ত রিচার্জ “পেন্ডিং” থাকে, টাকা কার্ডে যোগ হয় না।
যে নিয়মগুলো না জানলে টাকা গুনতে হয়
- ৬০ মিনিটের নিয়ম। সিঙ্গেল টিকিট গেটে ট্যাপ করার পর ৬০ মিনিট কাজ করে। এর বেশি লাগলে এক্সেস ফেয়ার অফিসে টাকা দিতে হয়, আগের ভাড়াসহ মোট ২০০ টাকা।
- টিকিটের চেয়ে দূরে নামলে। যে স্টেশনের টিকিট কেটেছেন, তার পরে নামলে এক্সেস ফেয়ার অফিসে বাড়তি ভাড়া দিতে হয়।
- কার্ডে ব্যালেন্স কম থাকলে। বের হওয়ার সময় ব্যালেন্সে না কুলালে বের হওয়ার গেটের পাশের কাউন্টারে রিচার্জ করে নিন।
- ফ্রি বা ছাড়ের টিকিট অন্য কাউকে দেওয়া যায় না।
কারা ফ্রিতে বা কম ভাড়ায় চড়েন
- ৩ ফুটের চেয়ে খাটো শিশু: অভিভাবকের সঙ্গে ফ্রি।
- যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা: পরিচয়পত্র দেখিয়ে কাউন্টার থেকে ফ্রি টিকিট।
- ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী আর প্রতিবন্ধী যাত্রী: ২৫% কম, টিকিট শুধু কাউন্টারে। স্টুডেন্টদের জন্য আলাদা ছাড় নেই।
কার্ডের ব্যালেন্স চেক করবেন কীভাবে
স্টেশনের যেকোনো টিকিট মেশিন বা কাউন্টারে ব্যালেন্স দেখা যায়। গেটে ট্যাপ করলে গেটের স্ক্রিনেও ব্যালেন্স ওঠে, প্রতিবার একবার চোখ বুলিয়ে নেওয়া ভালো। অনলাইনে রিচার্জ করলে মনে রাখবেন, AVM-এ ট্যাপ না করা পর্যন্ত নতুন টাকা কার্ডে দেখাবে না।
এনএফসি আছে এমন অ্যান্ড্রয়েড ফোন থাকলে গুগল প্লের MetroPath অ্যাপের কার্ড ট্যাবে কার্ডটা ফোনের পেছনে ধরুন, ব্যালেন্স আর শেষ কয়েকটা যাত্রা দেখে নিন। কার্ড আপনার ফোনেই পড়া হয়, কোথাও কিছু পাঠানো হয় না।
কার্ড হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হলে করণীয়
র্যাপিড পাস: হারালে সঙ্গে সঙ্গে র্যাপিড পাসের হেল্পলাইনে জানান, যাতে অন্য কেউ ব্যবহার করতে না পারে। নতুন কার্ড পাবেন শুধু কার্ড নিবন্ধিত থাকলে। কোনো মেট্রো স্টেশনের র্যাপিড পাস কাউন্টারে (বা rapidpass.com.bd-তে) কার্ড নম্বর, নাম আর মোবাইল নম্বর দিয়ে আবেদন করুন, আর যে ভাউচারটা দেবে সেটা রেখে দিন। হারানো কার্ডের বদলে নতুন কার্ডে ২০০ টাকা জামানত আর ২০০ টাকা রি-ইস্যু ফি লাগে; কার্ড নষ্ট হলে লাগে ২০০ টাকা। পুরোনো ব্যালেন্স নতুন কার্ডে চলে আসে। ১৫ দিনের মধ্যে একই কাউন্টার থেকে নতুন কার্ড তুলে নিন।
এমআরটি পাস: যেকোনো স্টেশনের এক্সেস ফেয়ার অফিসে যান। এমআরটি পাসের জন্য ডিএমটিসিএলের আলাদা রিফান্ড ও রি-ইস্যু ফরম আছে।
কার্ড আর না লাগলে নিবন্ধিত র্যাপিড পাস ফেরত দিতে পারেন: ২০ টাকা রিফান্ড ফি কেটে জামানত আর বাকি ব্যালেন্স সেদিনই ফেরত দেওয়া হয়।
অনলাইনে বা কিউআর কোডে কি টিকিট কাটা যায়?
এখনো না। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে টাকা দিয়ে কিউআর কোড টিকিটের কথা ডিএমটিসিএল ২০২৪ সাল থেকে বলছে, আর আগস্ট ২০২৬-এ জানিয়েছে এর টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। চালু না হওয়া পর্যন্ত সিঙ্গেল টিকিট শুধু স্টেশনেই পাওয়া যাবে। অনলাইনের সবচেয়ে কাছাকাছি সুবিধা হলো কার্ড নিয়ে অনলাইনে রিচার্জ করা।
এরপর দেখে নিন মেট্রোরেলের সময়সূচি, শুক্রবারের সময়সহ।
তথ্যসূত্র
- ডিএমটিসিএল: এমআরটি পাস ও একক যাত্রার টিকিটের নিয়ম (লিফলেট)
- ডিএমটিসিএল: এমআরটি পাসের ফরম ও তথ্য
- র্যাপিড পাস: ব্যবহারের নিয়ম ও অনলাইন রিচার্জ
- র্যাপিড পাস: গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলী (নিবন্ধন, রিফান্ড, রি-ইস্যু)
- ডিএমটিসিএল: বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের ভাড়ার তালিকা (২৫ মে ২০২৬)
- প্রথম আলো: বিকাশে মেট্রোরেলের কার্ড রিচার্জের নিয়ম (ইংরেজি, ডিসেম্বর ২০২৫)
- বিডিনিউজ২৪: মেট্রোরেলে কিউআর কোড পদ্ধতি (ইংরেজি, আগস্ট ২০২৬)
সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
মেট্রোরেলের টিকিট কি অনলাইনে কাটা যায়?
সিঙ্গেল টিকিট এখনো অনলাইনে কাটা যায় না, স্টেশনের মেশিন বা কাউন্টার থেকে কিনতে হয়। কিউআর কোড টিকিট নিয়ে ডিএমটিসিএল আগস্ট ২০২৬-এ টেন্ডার শুরুর কথা বলেছে। তবে এমআরটি পাস আর র্যাপিড পাস অনলাইনে রিচার্জ করা যায়।
মেট্রোরেলের টিকিট কাটতে কী কী লাগে?
সিঙ্গেল টিকিটে শুধু ভাড়ার টাকা লাগে, কোনো কাগজ লাগে না। এমআরটি পাস নিতে স্টেশনে একটা ফরম পূরণ করতে হয়, আর র্যাপিড পাসের জন্য লাগে এনআইডি।
র্যাপিড পাস বা এমআরটি পাস অনলাইনে রিচার্জ করব কীভাবে?
rapidpass.com.bd বা র্যাপিড পাস অ্যাপে লগইন করে কার্ড সিলেক্ট করুন, ১০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে অ্যামাউন্ট দিন, তারপর বিকাশ, নগদ, রকেট বা ব্যাংক কার্ডে পে করুন। এরপর যেকোনো মেট্রো স্টেশনের অ্যাড ভ্যালু মেশিনে (AVM) কার্ড ট্যাপ করুন। ট্যাপ না করা পর্যন্ত টাকা কার্ডে যোগ হয় না।
এমআরটি পাস নাকি র্যাপিড পাস, কোনটা নেব?
মেট্রোতে দুটোই এক: প্রতিবার ১০% কম, টিকিটের লাইন নেই। র্যাপিড পাস কিছু বাস রুটেও চলে, তবে এনআইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। এমআরটি পাস চলে শুধু মেট্রোতে।
এমআরটি পাস বা র্যাপিড পাস হারিয়ে গেলে কী করব?
র্যাপিড পাস হারালে সঙ্গে সঙ্গে হেল্পলাইনে জানান, যাতে অন্য কেউ ব্যবহার করতে না পারে। কার্ড রেজিস্টার্ড থাকলে স্টেশনের র্যাপিড পাস কাউন্টারে আবেদন করুন। নতুন কার্ডে ২০০ টাকা জামানত আর ২০০ টাকা রি-ইস্যু ফি লাগে, পুরোনো ব্যালেন্স নতুন কার্ডে চলে আসে। ১৫ দিনের মধ্যে কার্ড তুলে নিতে হয়। এমআরটি পাস হারালে স্টেশনের এক্সেস ফেয়ার অফিসে (EFO) যোগাযোগ করুন।
স্টেশনের ভেতরে ৬০ মিনিটের বেশি থাকলে কী হয়?
সিঙ্গেল টিকিট গেট দিয়ে ঢোকার পর ৬০ মিনিট কাজ করে। এর বেশি দেরি হলে বের হওয়ার সময় এক্সেস ফেয়ার অফিসে টাকা দিতে হয়, আগের ভাড়াসহ মোট ২০০ টাকা।
মেট্রোরেল কার্ডের ব্যালেন্স চেক করব কীভাবে?
স্টেশনের টিকিট মেশিনে বা কাউন্টারে দেখা যায়, আর গেটে ট্যাপ করলে গেটের স্ক্রিনেও ব্যালেন্স ওঠে। এনএফসি আছে এমন অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গুগল প্লের MetroPath অ্যাপের কার্ড ট্যাবে ফোনের পেছনে কার্ড ধরলেই ব্যালেন্স আর শেষ কয়েকটা যাত্রা দেখা যায়।